যশোর-৬: হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি-জামায়াত
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২
কামরুজ্জামান রাজু, কেশবপুর:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকী। ফলে যশোর-৬ কেশবপুর আসনের প্রার্থীরা এখন প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও কর্মীসভার মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল)।
তবে ধারণা করা হচ্ছে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলীর মধ্যে। তবে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি ও জামায়াত তাদের হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে জোরাল ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজার থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন, এতদিন মানুষ তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। এবার ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
এই আসনে বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ ও একটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ২ বার, জামায়াতে ইসলামী ১ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ বার বিজয়ী হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে এই আসনে এমপি হন আওয়ামী লীগের পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে সংসদীয় আসন যশোর-৬ গঠিত হলে বিজয়ী হন বিএনপির গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিজয়ী হন।
এরপর ১৯৮৮ সালে এ আসনের এমপি হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদল করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন বিএনপি থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।
২০০৮ সালে সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) সংসদীয় আসন-৬ থেকে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পূর্বের সীমানায় (শুধু কেশবপুর উপজেলা) নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর দুবার নির্বাচিত হন প্রয়াত শিক্ষামন্ত্রী এএসএইচকে সাদেকের স্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২০ সালে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খন্দকার আজিজুল ইসলাম বিজয়ী হন।
দীর্ঘদিন এ আসনটিতে রাজত্ব করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পাল্টে গেছে চিত্র। আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াত। তবে বিএনপিও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে আসনটি নিজেদের ঝুলিতে নিতে। জয়ের ব্যাপারে দুই দলই আশাবাদী। তবে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজে যে প্রার্থী সর্বস্তরের ভোটারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন তিনিই এগিয়ে যাবেন।
বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছি। এছাড়া স্থানীয় কিছু বিষয় নিয়ে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত কেশবপুর গড়া, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। জয়ী হবো আমি আশাবাদি।’
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ইস্তেহার ঘোষণা করা না হলেও প্রচার পত্রে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার ১১ দফা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দৃঢ়। যারা হিংসা-হানাহানি করছে জনগণ তাদের বর্জন করবে। ইনশাল্লাহ জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।’
কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনটি গঠিত। বর্তমানে এ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৪০৯ জন। তার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১১ হাজার ৪৪১ ভোট ও নারী ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৬ ভোট।
আপনার মতামত লিখুন :