• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

বেনাপোলের চাঞ্চল্যকর ইউনুস হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬, ১৫:১৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী (৪৭) হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান আসামি মোঃ সোহেল রানা (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও লাশ গুমের জন্য ফাঁস দেওয়া গামছাটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) তাকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৪র্থ আদালত), যশোরে সোপর্দ করা হলে তিনি এই জবানবন্দি দেন। গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা বেনাপোল পোর্ট থানাধীন রহমতপুর গ্রামের মোঃ কুদ্দুস সিকদারের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাডা গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২২ এপ্রিল দুপুরে মামলার অপর আসামি তরিকুল ইসলাম কাজের কথা বলে ইউনুসকে ডেকে রহমতপুর গ্রামের পলাতক আসামি রানার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা মূল ঘাতক আনোয়ার হোসেন ও রানা তাকে একটি ঘরের ভেতর আটকে রেখে মারধর এবং শারীরিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে ইউনুস আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর ওই রাতেই লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধৃত আসামি সবুজের মোটরসাইকেলে করে বেনাপোল-পুটখালী সড়কের চারা বটতলা নামক স্থানে ফেলে রেখে আসা হয়। পরদিন ২৩ এপ্রিল পুলিশ অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৫) দায়ের করেন।

পরবর্তীতে পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট স্বউদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রতন মিয়া গত ২৭ এপ্রিল ঘটনার সাথে জড়িত তরিকুল ও সবুজকে গ্রেফতার করেন। ঘটনার পর থেকেই মূল আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক সোহেল রানার অবস্থান নিশ্চিত করে। গত ২৪ মে রাত ১১:১৫ মিনিটে শার্শা থানার গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পলাতক আসামি আনোয়ারের ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

তদন্ত তদারকী কর্মকর্তা ও পিবিআই যশোর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেছে যে— সে, আনোয়ার ও তরিকুল মিলে ইউনুস আলীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং সবুজের মোটরসাইকেলে লাশ ফেলে আসে। বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পিবিআই-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।