• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘ইরানে মার্কিন হামলা চালানো উচিত হয়নি’: ফক্স নিউজে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬, ১১:৩৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা ও সামরিক অভিযান চালানো মোটেও উচিত হয়নি বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সময়মতো ওই অভিযান পরিচালনা না করত, তাহলে ইরান এতদিনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত। গতকাল শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,“আমাদের ইরানে যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে। যদি ৯ মাস আগে আমরা তাদের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে আঘাত না করতাম, তাহলে এতদিনে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলত এবং আমাদের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতা হাজির হতো। হয়তো ইসরায়েল থাকত না, কিংবা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যই থাকত না। তারপর তারা কোথায় যেতো?”

বিগত বছরগুলোতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে চলা টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে। ২০২৫ সালের জুনের শুরুতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যা দিয়ে অনায়াসে পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব। এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক সপ্তাহ পরই ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে ১২ দিনব্যাপী যৌথ বিমান অভিযান চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে একই ইস্যুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের শুরু হওয়া টানা ৪০ দিনের সামরিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় ইরান। সেই অভিযানের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দু’দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০০৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ (জেআর) ইরাকের কাছে প্রাণঘাতী গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে— এমন অভিযোগ তুলে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় যে বুশের সেই দাবি সম্পূর্ণ ভুল ছিল এবং ইরাকে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অতীতের সেই ভুল স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, “আপনি ইরাকের দিকে তাকান। আমরা সেখানে খুব খারাপ কিছু করেছিলাম। ইরাকে আমরা যা করেছিলাম, তা ছিল চরম বোকামির একটি কাজ। সেখানে শুরুতেই হাশরা (হামলা) করা আমাদের উচিত হয়নি।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী যদি চাইত— তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ‘শেষ’ করে দিতে পারত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, ইরানের মূল প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রী শাসকদের তুলনায় অনেকটাই ‘উদার’ এবং ‘অবৈরীসুলভ’। আর এ কারণেই দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মার্কিন সেনারা বড় কোনো ক্ষতি না করে ‘ছাড় দিয়েছে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিশেষে বলেন, “আসলে যুদ্ধে প্রায়ই ভুল হয়। জনগণ জেনে অবাক হবেন যে অনেক সময় এমন ভুল হয় যে সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এবং যে দেশের সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে, সেটি ৪০ বছর পিছিয়ে যায়।”