• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

দল নিষিদ্ধ ও ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন: ওয়াশিংটন থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) পাঠানো এই চিঠিতে তারা আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সই করেছেন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা, সিডনি কামলাগার-ডোভ, জুলি জনসন এবং টম আর সুওজি।

রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে উদ্বেগ: চিঠিতে সরাসরি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করা হলেও, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেন, "একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায়বদ্ধতার নীতির পরিপন্থী।" তারা আরও উল্লেখ করেন যে, কোনো নির্দিষ্ট দলের কার্যক্রম স্থগিত করলে জনগণের একটি বড় অংশের ভোটাধিকার খর্ব হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক বৈধতাকে দুর্বল করতে পারে।

নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: মার্কিন আইনপ্রণেতারা আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যকে স্বাগত জানালেও কিছু বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছেন। তারা বলেন, "সরকার যদি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত করে কিংবা ত্রুটিপূর্ণ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ পুনরায় সচল রাখে, তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।"

চিঠির মূল বার্তা:
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন: রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • মানবাধিকার রক্ষা: সামষ্টিক দায়বদ্ধতার বদলে কেবল অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে বিচারের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
  • গণতান্ত্রিক উত্তরণ: বাংলাদেশের জাতীয় সংকটে ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে বলে মনে করেন তারা।

চিঠিতে পরিশেষে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় ওয়াশিংটন সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।