• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

চট্টগ্রামে ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩২
ছবির ক্যাপশন: ad728

ক্রীড়া প্রতিবেদক 
ঢাকা থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) খেলে চট্টগ্রাম ফেরার পথে জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে মারধর ও চরম হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা এবং পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

গত শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর নাঈম তাঁর নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্রিকেটার নাঈম হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার প্রিমিয়ার লিগের খেলা ছিল। ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় রাতে বিমানবন্দর থেকে সিএনজি নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে লালখানবাজার ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ আমার সিএনজি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র নেয়। আমি তখন পুলিশকে বলি— ‘প্রয়োজন হলে আপনারা আমার ব্যাগ চেক করেন’। কিন্তু তারা আচমকা আমার গলা চিপে ধরে বলল, ‘তুই গাড়িতে উঠ’। এই বলে আমাকে জোর করে গাড়িতে তোলে।"

নাঈম আরও জানান, "গলা টিপে ধরার কারণ জানতে চেয়ে আমি ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে তারা আবারও আমাকে ধরে মারধর ও হেনস্তা শুরু করে। সেখানে পুলিশের পোশাক পরা দুজন এবং সাদা পোশাকে পাঞ্জাবি পরা আরেকজন ব্যক্তি ছিলেন। পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিটি কোনো পরিচয় না দিয়ে পাইপ দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর বন্ধ করেনি। বরং বলতে থাকে— ‘তুমি আসামি, কোনো কথা বলবে না।’ আমি আমার আইডি কার্ড দেখানোর পরও রেহাই পাইনি।"

পরবর্তীতে নাঈম হাসানকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাঈম বলেন, "পুলিশ, আর্মি আমাদের কখনো ডাকলে আমরা গাড়ি থেকে নামি, উনারা চেক করে ছেড়ে দেন। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? তথাকথিত সোর্স এবং পুলিশ লাঠি দিয়ে আমাকে মেরেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আজকে আমার ওপর হাত তুলেছে, কাল অন্য সাধারণ মানুষের ওপর তুললে তো কেউ কথা বলার থাকবে না।"

থানায় গিয়ে মোবাইল ফোন হাতে পাওয়ার পরপরই নাঈম হাসান বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে জানান। বিসিবি সভাপতি তাৎক্ষণিকভাবে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নাঈমের বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে বলে নাঈমকে আশ্বস্ত করেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ক্রিকেটার নাঈম হাসান অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। আমরা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ সদস্য হোক বা অন্য কেউ, এই বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করব। কারণ এর সঙ্গে পুলিশের ভাবমূর্তি জড়িত। নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে আমরা কাজ করছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না।"

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, সেখানে মূলত সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত একটি গোপন তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ দল সেখানে অভিযানে গিয়েছিল। তবে তথ্য যাচাইয়ের নামে পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধর করার কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেই।"