• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোতে মিশর, জয় উৎসর্গ ফিলিস্তিনিদের


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে মিশর। তবে ঐতিহাসিক এই সাফল্যের আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মাঠের সেই ঐতিহাসিক জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন নির্যাতিত ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি। তাঁর এই আবেগঘন বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপ ও শরণার্থী শিবিরগুলোতেও দেখা গেছে আনন্দের এক অনন্য ও অভূতপূর্ব দৃশ্য।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব থার্টি-টু) এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মুখোমুখি হয় মিশর ও অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পায় আফ্রিকার এই দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ইমাম আশুরের দারুণ এক হেডে লিড নেয় মিশর (১-০)। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়োয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া (১-১)। এরপর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। টাইব্রেকারে মিশরের হয়ে জয়সূচক স্পটকিকটি নেন হোসাম আবদেলমাগুইদ। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন পেনাল্টি মিস করলে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হয় মিশরের।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, “আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাঁদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই ঐতিহাসিক জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত ও লড়াকু মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।”

ম্যাচ জেতার পরপরই মাঠের ভেতর মিশর ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকা হাতে নিয়ে উদযাপন করেন কোচ হোসাম। দলের খেলোয়াড়রাও মাঠে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ঐতিহাসিক এই অর্জন উদযাপন করেন।

কোচ হাসানের এই মানবিক বার্তাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। গাজার অনেক বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সমর্থক মিশরের এই জয়ে নিজেদের আবেগ ও আনন্দ প্রকাশ করেন। গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “জীবনে এই প্রথম এতটা উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। মিশরের জয় আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল, ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ি আর তাঁবু থেকে হাজারো মানুষ বেরিয়ে এসে একসঙ্গে ম্যাচ দেখছিল। চারদিকে ছিল শুধু হাসি আর উল্লাস।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন শত শত ফিলিস্তিনি। অনেক শিশুর গালে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা। মিশরের প্রতিটি গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকেরা। যুদ্ধের ভয়াবহতা আর নির্মমতার মাঝেও ফুটবল যেন গাজাবাসীকে এনে দিয়েছে পরম স্বস্তি আর আনন্দের কিছু টুকরো মুহূর্ত।

পরবর্তী রাউন্ডে (শেষ ষোলোতে) বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর।