• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

সংসদীয় কমিটিতে উত্তাপ: ১৫টি মৌলিক সংস্কার ইস্যুতে জামায়াতের ভিন্নমত


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৩:১১
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মৌলিক বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে গণভোট পুনর্বহাল, মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সরকার সংখ্যাধিক্যের জোরে কিছু বিতর্কিত বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আজকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে আমরা একমত হতে পারিনি। মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আবারও দলীয়করণের পুরনো ধারায় ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে।”

বিচার বিভাগের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ বাছাই কমিটি—যা সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল—সরকার তা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাইছে। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার সরকারি প্রচেষ্টায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতির আবেগ ও রায় জড়িত। সরকার এটি বাতিল করতে চায়, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধান বহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।”

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে মাত্র ১০-১৫টি বিষয়ে কিছু সংশোধনীসহ তারা একমত হয়েছেন। তবে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে এমন কোনো বিষয়ে তারা ছাড় দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। সংসদের আসন্ন অধিবেশনে এসব বিষয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।