• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

সাংবাদিক দেবাশীষসহ পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোলে হস্তান্তর


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:৪৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। শনিবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে মরদেহগুলো বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় আনা হয়। পরে দুই দেশের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজন ও সহকর্মীদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

নিহত পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং সাভারের জোবায়ের বাবু।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কার্যালয় থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহগুলো বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় আনা হয়।

বিজিবি ও বিএসএফের স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মরদেহ হস্তান্তরের সময় শূন্যরেখায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সীমান্তের পরিবেশ। পরে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে কুষ্টিয়া ও সাভারের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ গ্রহণ করতে তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা বেনাপোলে উপস্থিত হন। তাঁর পরিবারের চারজন—দেবাশীষ, তাঁর স্ত্রী আফসানা, ছেলে স্বর্ণাশীষ ও শ্বশুর আকরাম আলী—এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন।

সাভারের জোবায়ের বাবুর মরদেহ নিতে তাঁর মেজো ভাই মনির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা বেনাপোলে আসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যবসায়িক কাজে কলকাতায় যাওয়ার পর হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় জোবায়েরের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। অন্যদিকে আফসানা শারমীন ও তাঁর বাবা আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা
নো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নিহতদের পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে আসছে।

একই ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ শনিবার সকালে ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরেক বাংলাদেশি নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।