আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কুফরা শহরের একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কারাগার থেকে অন্তত ২০০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকে টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি ছিলেন। গত রোববার কুফরার নিরাপত্তা সূত্রগুলো ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মাটির প্রায় তিন মিটার নিচে একটি গোপন কারাগারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অত্যন্ত অমানবিক ও সংকীর্ণ পরিবেশে সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারকৃতদের অধিকাংশ সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়ার নাগরিক, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এক লিবীয় মানবপাচারকারী এই গোপন কারাগারটি পরিচালনা করত। সেখানে অভিবাসীদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় বা পাচারের জন্য নির্যাতন করা হতো। তবে অভিযান চলাকালীন ওই পাচারকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্য ও সংঘাত থেকে বাঁচতে ইউরোপের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া এসব মানুষ প্রায়ই লিবিয়ার দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া পাচারকারীদের কবলে পড়েন।
লিবিয়ায় অভিবাসীদের ওপর নির্যাতনের চিত্রটি কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায়। গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের অনেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। এছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুফরা এলাকাতেই ৩৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
আপনার মতামত লিখুন :