জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। গত রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে।
এর মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পথ বন্ধ করা হলো। গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কোনো অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ থাকলে তা পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারি আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর আদালত ওই মামলার কার্যক্রম আর এগোবেন না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ অব্যাহতি বা খালাস পাবেন। পাশাপাশি, অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশের ভূমিকায় বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতা এক সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে আত্মরক্ষাসহ জনশৃঙ্খলা পুনর্বহালের পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য ছিল। সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সুরক্ষা প্রদান প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে।
যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা সরাসরি আদালতে না গিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী কমিশন এই তদন্ত পরিচালনা করবে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে—ভিকটিম যদি কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের (যেমন পুলিশ) সদস্য হন, তবে ওই বাহিনীর কোনো বর্তমান বা প্রাক্তন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিতে হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই কমিশনের কাছ থেকে যৌক্তিক কারণ দর্শিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।
কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কমিশন ওই ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। অন্যদিকে, তদন্তে যদি দেখা যায় কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার করেছে, তবে কমিশন প্রতিবেদন দেবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে সাধারণ আদালতে মামলা করার পথ সংকুচিত করে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার এই অধ্যাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারবে।
আপনার মতামত লিখুন :