‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক সদস্য মতিউরের বিচার শুরু
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৭
বিশেষ প্রতিনিধি :
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্যে গরমিলের মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য ও বিতর্কিত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রের বরাতে জানা যায়, এদিন কারাগার থেকে আসামি মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালতের কাছে মতিউরের পক্ষে জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন। তবে দুদক প্রসিকিউটর জামিনের বিরোধিতা করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
দুদকের দাখিল করা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মতিউর রহমান তাঁর জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও নানা দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কেনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এরপরই এনবিআরের তৎকালীন সদস্য মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে থাকা বিপুল বিত্তবৈভবের তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৪ জুন মতিউর পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধানে মতিউর ও তাঁর স্বজনদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, ২টি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় মতিউর রহমান ও তাঁর স্বজনদের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও (BO) হিসাব জব্দ করে কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :