বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর ইরান, ‘দাঙ্গাবাজদের’ জন্য বিন্দুমাত্র নমনীয়তা নয়
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে সাম্প্রতিক ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উসকানিদাতা এবং সশস্ত্র হামলায় জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মিজান অনলাইন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “জনসাধারণের দাবি হলো—বিক্ষোভের নামে যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা ছড়িয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। আমরা জনগণের এই দাবির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব জনপদে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ থামাতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং পুলিশ ও রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
ইরান সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই গণবিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি বিবৃতিতে নিহতদের দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ (নির্দোষ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য) এবং বাকি ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই ৬৯০ জন সরাসরি সামরিক স্থাপনায় হামলা এবং সাধারণ মানুষ হত্যায় জড়িত ছিল।
প্রধান বিচারপতি মোহসেনি এজেই বলেন, “যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং গণহত্যায় উসকানি দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র নমনীয়তা দেখানো হবে না।”
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই সরকারি নিহতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। অনেক সংস্থার মতে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমলেও পুরো দেশজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :