• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে জনগণ সরকারকে মানবে না’: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে এবং জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে জনগণ এই সরকারকে মেনে নেবে না। এর ফলে দেশে নতুন করে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলরুমে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে এখন কোনো রক্তপাত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের রায় বাস্তবায়নই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষকেই অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায়কে যদি কোনোভাবে উপেক্ষা করা হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে যে—ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকার—কেউই জনগণের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। আগামীতেও কেউ তা পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, জনগণের মত ও আকাঙ্ক্ষা মেনে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিহিত রয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সব সংগ্রামই ছিল তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধে। যখনই জনগণের মত উপেক্ষা করা হয়েছে, তখনই মানুষ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে এবং কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তিই শেষ পর্যন্ত গদিতে টিকে থাকতে পারেনি।

ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এটি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের সকল প্রকার বিকৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানান। নতুন প্রজন্মের সামনে প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরা এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।