• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা ট্রাম্পের!


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬:৩৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

ইরান যদি পারমাণবিক বোমা তৈরির সব পথ স্থায়ীভাবে বন্ধের নিশ্চয়তা দেয়, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন দেশটিকে সীমিত পরিসরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে। তবে তেহরান যদি ওয়াশিংটনের কঠোর শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার মতো চরম পদক্ষেপ নিতে পারেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি চুক্তিতে আগ্রহী যা বাস্তবে কার্যকর এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য হবে। তবে তেহরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য একাধিক সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যদি কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার পরিকল্পনাও প্রেসিডেন্টের সামনে তোলা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর থেকে তাদের সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। ইসরায়েল সরকারও মনে করছে, তেহরান ও ওয়াশিংটন এমন এক অচলাবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে যৌথ সামরিক অভিযানই একমাত্র পথ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি চলতি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ট্রাম্পের হাতে।

এদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু ‘নির্দেশনামূলক নীতিমালা’র বিষয়ে একমত হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে ইরান একটি লিখিত খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে। আরাঘচি দাবি করেছেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে কারিগরি ও রাজনৈতিক নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত। এর বিনিময়ে তেহরান মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়।

জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ (IAEA)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। প্রস্তাবিত কারিগরি ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের ইরানে পূর্ণ নজরদারির সুযোগ দেওয়া এবং মজুত থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া বা পাতলা করে ফেলার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের প্রস্তাব হতে হবে অত্যন্ত বিস্তারিত এবং বিশ্বাসযোগ্য। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বল এখন ইরানের কোর্টে; তেহরান কতটা আন্তরিক তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি অথবা এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধ।