ইরান-পশ্চিমা যুদ্ধে: ১২ দিনে গুঁড়িয়ে গেছে সাড়ে ২৪ হাজার বেসামরিক স্থাপনা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ৬:৪২
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর গত ১২ দিনে ইরানে অন্তত ২৪ হাজার ৫৩১টি বেসামরিক স্থাপনা সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’ এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আলজাজিরা’ এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার সিংহভাগই সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি। ধ্বংস হওয়া ২৪ হাজার ৫৩১টি স্থাপনার মধ্যে ১৯ হাজার ৭৭৫টি রয়েছে আবাসিক বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ৬৯টি স্কুল এবং রেড ক্রিসেন্টের ১৬টি কেন্দ্র মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ২১টি বিশেষ যান এবং ১৯টি অ্যাম্বুলেন্সও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২০০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে কয়েক হাজার, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে রুদ্ধদ্বার সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের অভিযান শুরু করে।
হামলার প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা এই যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়।
ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এসব দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের অগ্নিগর্ভে নিমজ্জিত।
আপনার মতামত লিখুন :