• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ কার্যকর


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল পাস হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশন ও স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল-২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে এই বিলটি আনা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, বিসিএসের সব ক্যাডার এবং ক্যাডারবহির্ভূত সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই বয়সসীমা কার্যকর হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ২০২৪ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছিল। তবে পূর্বের কিছু নিয়োগবিধিতে বয়সসীমা ৩৩ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেই জটিলতা নিরসন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আইনি ভিত্তি দিতে এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

বিলটি পাসের আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান ১৩৩টি অধ্যাদেশ ও বিশেষ কমিটির রিপোর্টের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানান। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশই সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং আলোচনার সুযোগ থাকবে। তবে এই বিলটি বিশেষ কমিটির সুপারিশক্রমে এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি দফাওয়ারি ভোটে দিলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় তা সরাসরি পাস হয়।

বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোট না আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, “চাকরিতে বয়স বাড়ানো ও বৈষম্য নিরসনের আন্দোলনের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর একটি ছিল এটি। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সময় বিরোধী দলের নীরবতা বা ‘হ্যাঁ’ না বলা দুঃখজনক।” তবে বিরোধী দল বিলটির বিপক্ষেও ভোট দেয়নি (না বলেননি)।

এই বিল পাসের মাধ্যমে এখন থেকে সরকারি সব সেক্টরে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩২ বছরের নিয়মটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি লাভ করল।