ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলা উদ্দেশ্য প্রণোদিত : মামলার বাদী
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের মণিরামপুরের চিকিৎসক ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণের মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন খোদ মামলার বাদী সামিয়া আফরুজ শান্তি। তার অভিযোগ, মণিরামপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কতিপয় ‘সাংবাদিক নামধারী’ জালিয়াত চক্র তাকে জিম্মি করে এই মামলা করতে বাধ্য করেছে।
আজ রবিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন ওই তরুণী। সংবাদ সম্মেলনে তার বাবা-মা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সামিয়া জানান, ডা. রাফসান তার দুলাভাই। ২০২০ সালে পারিবারিক কিছু ভুল বোঝাবুঝির জেরে তিনি দুলাভাই ও বোনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সেই সুযোগ নেয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল। সাংবাদিক পরিচয়ধারী আসিফ আকবর সেতু ও নূর ইসলাম নাহিদসহ একটি চক্র তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডা. রাফসানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
তরুণীর দাবি, গত ১৫ মার্চ তাকে ফুসলিয়ে যশোর আনা হয় এবং পরে মণিরামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থানার একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে সাদা কাগজে ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সামিয়া আপত্তি জানালেও চক্রটি তা তোয়াক্কা না করে মামলা দায়ের করে।
সামিয়া অভিযোগ করেন, মণিরামপুর থানার ওসি তাকে দুই দিন থানায় আটকে রাখেন। এমনকি তার বাবা-মা থানায় তাকে খুঁজতে গেলেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমার সরলতা ও ক্ষোভকে পুঁজি করে তারা চাঁদাবাজির ব্যবসা ফেঁদেছিল। আমার মেজ বোন সুরমাও এই চক্রের সাথে যোগ দিয়ে ১০ লক্ষ টাকার একটি ভুয়া কল রেকর্ড সাজায়।”
বর্তমানে চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই তরুণী জানান, এই মিথ্যা মামলার কারণে তিনি সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না। তিনি বলেন, “এই ঘটনার পর আমি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছি। আমাকে নিয়ে পুনরায় কোনো মিথ্যা বা আপত্তিকর সংবাদ প্রচার করা হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হব এবং এর জন্য ওই প্রতারক চক্রই দায়ী থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি মণিরামপুর থানার ওসিসহ এই চাঁদাবাজ ও প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ডা. রাফসানের সম্মান পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :