• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে ৪৫ মণের ‘ঠান্ডা ভোলা’ বিক্রি করে স্বপ্নপূরণ করতে চান খামারি ঝর্ণা রায়


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬, ১৬:৩৬
ছবির ক্যাপশন: ad728

কামরুজ্জামান রাজু
পাহাড়সম আকৃতি, ওজন প্রায় ৪৫ মণ! বিশাল দেহের এই গরুটিকে চার বছর আট মাস ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন পরিবারের তিনজন সদস্য। নিজেদের বাড়ির বাছুর থেকেই তৈরি হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টি। স্বভাব অত্যন্ত শান্ত ও ঠান্ডা প্রকৃতির হওয়ায় খামারি ঝর্ণা রায় আদর করে এর নাম রেখেছেন ‘ঠান্ডা ভোলা’। দীর্ঘদিনের ভালোবাসায় গরুটি এখন তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছে। আর এই ‘ঠান্ডা ভোলা’কে ঘিরেই এখন নতুন স্বপ্নের জাল বুনছে পরিবারটি।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ফুলেরগাতি গ্রামের এক প্রান্তিক খামারি ঝর্ণা রায়। নিজের এক ভাঙাচোরা গোয়ালঘরেই এই বিশাল আকৃতির গরুটি বড় করেছেন তিনি। এবারের কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে কালো রঙের এই রাজকীয় ষাঁড়টিকে। কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে তবেই তাকে বিক্রি করা হবে। ৪৫ মণ ওজনের এই ‘ঠান্ডা ভোলা’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। অনেক কষ্টের এই ধন বিক্রি করে নিজেদের ভাগ্যবদল ও স্বপ্ন পূরণ করতে চান তারা।

খামারি ঝর্ণা রায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ রায়ের দাবি, "এটি খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। প্রান্তিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম শীর্ষ বড় গরুর তালিকায় আমাদের ‘ঠান্ডা ভোলা’ জায়গা করে নেবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"

ঝর্ণা রায়ের স্বামী লক্ষণ রায় জানান, ঠান্ডা ভোলাকে কোনো কৃত্রিম উপায়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। নিজেদের মেশিনে ভুট্টা, গম, বুটের ডাল, খৈল ও ভূষি একত্রে গুঁড়ো করে বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়। প্রতিদিন দুই বেলা এই দানাদার খাবার এবং তিন বেলা শুকনা খড় ও কাঁচা ঘাস দেওয়া হয় তাকে।

তিনি আরও বলেন, "প্রতিদিন এই গরুটির পেছনে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হয়। বাপ-বেটা মিলে যা আয় করি, তার বেশিরভাগ টাকাই এই গরুর পেছনে চলে যায়। প্রতিদিন নিয়ম করে তাকে গোসল করানো হয়। মাঝেমধ্যে একটু রেগে গেলে মাথায় পানি দিলেই শান্ত হয়ে যায়।"

আবেগঘন কণ্ঠে খামারি ঝর্ণা রায় বলেন, "ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের হওয়ায় নাম রেখেছি ‘ঠান্ডা ভোলা’। ওকে আমরা কখনো কখনো ‘দাদা’ বলেও ডাকি। ঘরের সব কাজের ফাঁকে ওর আদর-যত্ন করেছি। আমাদের গোয়াল ঘরটা ভালো না, জরাজীর্ণ। আকাশে মেঘ ডাকলে বা ঝড়-বৃষ্টি হলে ভয়ে ওর পাশে গিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকি। ও এতটাই অবুঝ যে, আমাদের সব কথা বোঝে। যা বলি তাই শোনে; এমনকি মুখ হা করে দাঁত দেখাতে বললে দাঁতও দেখায়।"

এদিকে, গ্রামীণ জনপদে গড়ে ওঠা এই বিশাল আকৃতির শান্ত ষাঁড়টির খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন ফুলেরগাতি গ্রামের ওই খামারির বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। একনজর ‘ঠান্ডা ভোলা’কে দেখতে এবং তার সাথে ছবি তুলতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন অনেকে।