• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

কেশবপুরে মউশিক কর্মচারীদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬, ১৩:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
সারাদেশের ন্যায় যশোরের কেশবপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (মউশিক) প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকারসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর এবং সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মউশিক কেশবপুর শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ শরীফ। এর আগে 

সোমবার মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ-এর কেশবপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে দেশের শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এই যুগান্তকারী প্রকল্পটি চালু হয়। দেশব্যাপী ইতিমধ্যে সফলভাবে ৭টি পর্যায় সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বর্তমানে ৮ম পর্যায়ে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এই সময়ে প্রকল্পটির আওতায় ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৯৫০ জন এবং ৭ম পর্যায়ে প্রায় ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫১ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক ও সহজ কুরআন শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের শিক্ষা খাতে একটি বিরল সাফল্য।

বর্তমানে সারাদেশে এই প্রকল্পে প্রায় ৭১ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশজুড়ে তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আলো ছড়ানোর দায়িত্ব পালন করলেও, দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র ও স্বল্প ভাতা এবং চরম এক চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করেন, মউশিক শিক্ষকরা শুধু পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং সরকারি তহবিলে জাকাত সংগ্রহ, মাদক, বাল্যবিবাহ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে অনন্য অবদান রাখছেন। এতসব অবদানের পরেও দেশের এই বিশাল একটি শিক্ষক সমাজ আজ চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অবমূল্যায়নের শিকার।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় শিক্ষাধারায় অনন্য অবদান রাখা এই বৃহৎ প্রকল্পটি দ্রুত রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা, প্রকল্পে কর্মরত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কেয়ারটেকার ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে সরকারি গ্রেড অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন,মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সহ সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম মফিজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, ইমরান হোসেন, কেয়ারটেকার আকবর আলী, রুস্তম আলী, কামরুজ্জামান প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সারাদেশের লাখো শিক্ষকের ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মানবিক ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই প্রকল্পের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।