• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

এফডিআরের টাকা ফেরত না পেয়ে যশোরে এক্সিম ব্যাংকে গ্রাহকদের বিক্ষোভ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৬:০৭
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে যশোরে এক্সিম ব্যাংকের হাটখোলা রোড শাখার সামনে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। বিক্ষোভকারীরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘসূত্রিতা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ তুলে দ্রুত তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধের দাবি জানান।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির সদস্যরা ব্যাংকের শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের আমানতের অর্থ ফেরত চেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির ১১০ জন সদস্য এক বছর মেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে মোট ৬৫ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুরো অর্থ পরিশোধ করছে না।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বারবার ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে টাকা পরিশোধ না করে কয়েক দফায় অর্থ গ্রহণের প্রস্তাব দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান বলেন, “আমাদের সদস্যরা কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন নিরাপত্তা ও মুনাফার আশায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। বারবার যোগাযোগ করেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান মিলছে না। এখন কিস্তিতে টাকা নিতে বলা হচ্ছে, যা ফিক্সড ডিপোজিটের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে টাকা আটকে থাকায় তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন গ্রাহক বলেন, “আমরা সমিতির মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছি। এখন সমিতির সদস্যরা আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য। কিন্তু ব্যাংক সাত মাসেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”

তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রাহকরা একত্রিত হয়ে ব্যাংক শাখায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কর্মসূচিও দিতে পারেন।”

অভিযোগের বিষয়ে এক্সিম ব্যাংক যশোর হাটখোলা রোড শাখার ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদের টাকা দুই ধাপে পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করেই বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা আগামী রোববার পর্যন্ত সময় নিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটি ইসলামী ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আগের নিয়মে এখন অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্রাহকদের সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ করছি।”

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও দ্রুত অর্থ পরিশোধ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।