পাচারের শিকার দুই বাংলাদেশি নারীকে ফেরত দিল ভারত
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬, ১৪:২৯
বেনাপোল প্রতিনিধি:
ভারতে পাচারের শিকার দুই বাংলাদেশি নারীকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদের বেনাপোল স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা নারীরা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর গ্রামের আজিম আলীর মেয়ে আরজিনা আজিম প্রামাণিক (৩১) এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার পারগেন্ডারিয়া এলাকার তারা মিয়া সরদারের মেয়ে তাহমিনা আক্তার ইতি (৩৫)।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে মুম্বাইয়ের গ্রান্ট রোড এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
আরজিনা প্রামাণিক ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দালালের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হন। পরে ২০২৫ সালের ২০ জুন মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করে এবং ২১ জুন ‘নওজীবন মহিলা হোমে’ পাঠায়। সেখানে তিনি প্রায় ১১ মাস ছিলেন।
অন্যদিকে, তাহমিনা আক্তার ইতি ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার হন। একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মুম্বাই পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরদিন নওজীবন মহিলা হোমে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি প্রায় ১ বছর ৮ মাস অবস্থান করেন।
ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), মুম্বাইয়ের এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, দেশে ফেরত আসা নারীদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :