‘জুলাই অভ্যুত্থানকে সন্ত্রাসবাদ বলা ধৃষ্টতা, আসামিপক্ষকে সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর’
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করে কোনো বক্তব্য দেওয়া বা একে নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘ধৃষ্টতা’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আইনজীবীর এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় জুলাই মাসে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষের ন্যায্য সংগ্রাম। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এই আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদী বলার সাহস যেন কেউ না দেখায়। জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক ঐকমত্য অনুযায়ী এটি জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম। এই সংগ্রাম দমনে কারফিউ দেওয়া কোনো আইনসম্মত পদক্ষেপ ছিল না, বরং এটি ছিল গণহত্যাকে সহজতর করার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা।”
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, আন্দোলন দমনে আসামিরা একে অপরের সঙ্গে টেলিফোনে যেসব শলাপরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তার অকাট্য প্রমাণ ট্রাইব্যুনালের হাতে এসেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তারা টেলিফোনে যোগাযোগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সেই ফোনালাপের রেকর্ড ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করে বলেন, “দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা যেমন মানুষের আমলনামা লিখে রাখেন, এনটিএমসিও এই অপরাধীদের আমলনামা সেভাবেই লিখে রেখেছিল। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়তে গিয়ে তারা নিজেরাই সেই গর্তে পতিত হয়েছেন।”
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরস্ত্র মানুষকে পাখির মতো গুলি করা, শিশুদের হত্যা এবং পুড়িয়ে মারার ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে কারফিউ কোনো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ছিল না। বরং তা ছিল নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর একটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। এসব ফোনালাপ এবং সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ আগামীতে বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন :