ভিয়েতনামে আলু পাঠাতে পারবেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৮
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হলো। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। এখন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে সরকারিভাবে আলু পাঠাতে পারবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।
হ্যানয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে, ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করেছে।
ভিয়েতনামের কঠোর আমদানিনীতি অনুযায়ী, কোনো দেশ আলু রপ্তানি করতে চাইলে দেশটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রসহ কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও কারিগরি পর্যালোচনা শেষে এই অনুমতি দেয়। গত মে মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছিল। প্রায় ১০ মাসব্যাপী দীর্ঘ প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষে এই চূড়ান্ত সফলতা এল।
ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লুৎফর রহমান এই অর্জনকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ‘বড় মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি আলু রপ্তানিকারকদের জন্য যেমন নতুন বাজার উন্মুক্ত হয়েছে, তেমনি দেশের প্রান্তিক কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরাসরি উপকৃত হবেন।”
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আলুর সাফল্যের পর এখন তিলসহ অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির পথও প্রশস্ত হচ্ছে। ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য পৌঁছে দিতে দূতাবাস বর্তমানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানসম্মত আলু সরবরাহ বজায় রাখতে পারলে ভিয়েতনাম হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য।
আপনার মতামত লিখুন :