• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

গাছ ও ফসলের ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়: বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে হাইকোর্টের রুল জারি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬, ১৪:৪১
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
 যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ না করে কেবল ফসল ও গাছের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ২৩০ কেভির উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের পদক্ষেপ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসাথে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ৮ মার্চ বিচারপতি রজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি মো: আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন। সম্প্রতি মামলার সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হয়।

জানা যায়, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) যশোর পাওয়ার হাউজে সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন হরিণার বিলের মধ্য দিয়ে ৩ লাখ ২০ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করে। কিন্তু জমির মালিকদের অভিযোগ, তাদের কোনো প্রকার অবহিত না করেই জোরপূর্বক এই কাজ শুরু করা হয়।

মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে আশেপাশে গড়ে ওঠা এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতক ৮ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। রিটকারীদের দাবি, এই 'বৈদ্যুতিক মহাসড়ক' নির্মাণের ফলে লাইনের দুই পাশের বিপুল পরিমাণ জমি স্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কোনো কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেবে না, এমনকি ব্যাংক ঋণও পাওয়া যাবে না।

জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ অনুযায়ী কেবল গাছ ও ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে সংক্ষুব্ধ জমি মালিকদের পক্ষে মো: আমির হোসেন জুয়েলসহ স্থানীয়দের দাবি—বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর ১৪ ধারা এবং ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন ২০১৭’ অনুযায়ী, স্থায়ী সঞ্চালন লাইনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

 আদালতে পিটিশনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বিভূতি তরফদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও আহসান হাবিব। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব, পিডিবির চেয়ারম্যান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং যশোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জন প্রতিপক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

জমি মালিকরা জানান, তারা উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধী নন, তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং বিচার প্রত্যাশা করছেন।