• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে ২ শিবির নেতার পা কাটার মামলা: সাবেক এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরু আজ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬, ০২:৪৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্বপ্নভূমি ডেস্ক :
যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি ও পা কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

আজ সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভয়াবহ এই নির্যাতনের মামলায় মোট আসামি আটজন। তাদের মধ্যে বর্তমানে তিনজন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন:
  • চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম
  • কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান
  • কনস্টেবল জহরুল হক

মামলার মূল অভিযুক্ত তৎকালীন বিতর্কিত পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ বাকি ৫ আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

এর আগে, গত ২০ এপ্রিল এই আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত থাকা তিন আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন (১ জুন) ধার্য করেন।

প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আটকের পর নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির না করে, তাদের থানায় আটকে রেখে টানা দুই রাত অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।

পরবর্তীতে ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটক’ সাজিয়ে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ওই দুই ছাত্রনেতার পায়ে গুলি করায় তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গুলি করার পরও থামেনি পুলিশের বর্বরতা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ইসরাফিল ও রুহুলের ক্ষতস্থানে জোরপূর্বক বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় এবং পরে তাদের মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আদালতে পুলিশের দায়ের করা সেই অস্ত্র মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তবে পুলিশের বর্বরতায় ক্ষতস্থানে বালু ঢুকে যাওয়ার কারণে দুই ছাত্রনেতার পায়ে পচন ধরে। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাণ বাঁচাতে দুজনেরই পা কেটে ফেলতে হয়। আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেন এই দুই তরুণ।

আজ ট্রাইব্যুনালে এই নির্মম নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে, যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশের মানবাধিকার কর্মীরা।