• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬, ০২:১১
ছবির ক্যাপশন: ad728

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে রোববারই দুই দেশের কর্মকর্তারা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করতে পারেন। তবে ইরান বলছে, চুক্তি স্বাক্ষরে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

শনিবার (১৪ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, চুক্তি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্নে শেষ হবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দুই পক্ষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী ধাপে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক মন্তব্য করে বলেন, চুক্তি রোববার নয়, বরং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি বলেন, সঠিক সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মধ্যেই শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া সমঝোতা প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের অনেক কাছাকাছি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি নিশ্চিত বলে ধরা যাবে না।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রাথমিক চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং দেশটির ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। পাশাপাশি জব্দকৃত কিছু অর্থও ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু শর্তে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়া বা ধ্বংস করা হবে না; বরং দেশের ভেতরেই এর সমৃদ্ধির মাত্রা কমানো হবে।

অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আরও নিরাপদ করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থাপনার প্রবেশপথে বিস্ফোরক মাইন স্থাপন এবং টানেল ধ্বংসের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভিযান প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত দখল বা অপসারণ করা আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর চূড়ান্ত স্বাক্ষর এবং তার পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে।