• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

লাইসেন্স ছাড়া ভ্যান-রিকশা নয়, যানজট নিরসনে কঠোর সিদ্ধান্ত যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬, ৬:০৯
ছবির ক্যাপশন: ad728

যশোর প্রতিনিধি 
যানজট নিরসন ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিল যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভ্যান বা রিকশা চালানো যাবে না। শুধুমাত্র যশোর পৌরসভার অনুমোদন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরাই ভ্যান-রিকশা চালাতে পারবেন। বর্তমানে পৌরসভার অনুমোদিত গাড়ির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার সাতশ। অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন উচ্ছেদে আগামী মাসের এক তারিখ থেকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হবে।  

রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় মে ২০২৬ মাসের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির কার্যবিবরণী ও জেলার অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করে উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কমলেশ মজুমদার।  

সভায় যানজট নিরসন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “যশোর শহরের যানজটের অন্যতম কারণ অপ্রয়োজনীয় ও লাইসেন্সবিহীন ভ্যান-রিকশা। এখন থেকে পৌরসভার অনুমোদিত চাকের লাগবে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির লাইসেন্স। শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তিই ভ্যান বা রিকশা চালাতে পারবেন।”  

তিনি আরও নির্দেশনা দেন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান কে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাইকিং করে বিষয়টি জনগণকে জানানোর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। ওই কমিটি যাচাই-বাছাই করে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের ৭ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দেবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। যারা লাইসেন্স প্রদান করবেন তাদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হবে।  

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই যশোর শহর হোক যানজটমুক্ত ও নান্দনিক। এর জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। লাইসেন্স ছাড়া কেউ রাস্তায় নামলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   
 
সভায় পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, শহরে ঢোকার স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণমাফিক গাড়ি প্রবেশ করানো হবে। কোন সময় কোন রুটে কোন ধরনের যানবাহন চলবে তা নির্ধারণ করা হবে। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে। রাস্তার দুই পাশ অবৈধ দখলমুক্ত করতে অভিযান জোরদার করা হবে।  

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। যশোরকে সুন্দর, নান্দনিক ও যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নাগরিকদের সচেতনতা ও আইন মানার মানসিকতা এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।”  

যশোর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক সৈয়দ রফিকুল হাসান বলেন, যানজট নিরসনে পৌরসভা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং যশোর পৌর পার্কের নিরাপত্তা জোরদার করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।  

তিনি আরও বলেন, 'রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চলবে। পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া কোনো ভ্যান-রিকশা রাস্তায় নামতে পারবে না। আগামী মাসের এক তারিখ থেকে চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।”   

সভায় বিগত মাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়। এডিসি রাজস্ব কমলেশ মজুমদার মে মাসের অপরাধচিত্র তুলে ধরেন। এতে দেখা যায়, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকের ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে। তবে কিশোর গ্যাং ও চোরাচালানের কিছু ঘটনা উদ্বেগের বিষয়।  
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্তে চোরাচালান ও পুশইন রোধে বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।  

সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম,  স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হোসেন সাফায়াত, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, র্যাবের এসপি রেজাউল হক। এছাড়া জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সকল সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন। 
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, “যানজট ব্যবসার জন্য বড় বাধা। পণ্য পরিবহনে দেরি হয়, খরচ বাড়ে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।” 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান শেষে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। আমরা কাউকে হয়রানি করতে চাই না। তবে শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে যশোর হবে দেশের অন্যতম পরিকল্পিত ও যানজটমুক্ত শহর।”