• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরে নদী-খাল দখলমুক্ত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি: সিএস রেকর্ড অনুযায়ী হবে উচ্ছেদ অভিযান


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬, ১৪:৪৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোর জেলায় নদী ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খনন কাজ ত্বরান্বিত করতে জেলা নদী রক্ষা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নদী রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্বকালে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নদী দখল করার কোনো সুযোগ নেই, আমরা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব। সকল নদীর সীমানা ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা আছে। শহর থেকে শুরু করে বসুন্দিয়া পর্যন্ত আমরা এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।

নদী উদ্ধারে আইনি জটিলতা এড়াতে জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে হাইলাইট করে বলেন, নদীর ক্ষেত্রে  জটিল আলোচনা। হাইকোর্টের নিয়ম অনুসারে সিএস রেকর্ডকে ভিত্তি করেই নদী চিহ্নিত করা হয়। মুক্তেশ্বরী নদীর মতো কোনো নদীকে যখন আমরা দখলমুক্ত করতে যাব, তখন যেন কেউ আইনি ফাঁকফোকর বা মামলা করে আমাদের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে না পারে। সেই লক্ষ্যে আমরা সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছি।

পৌরসভা এলাকায় নদী ও খাল দখলমুক্ত করার কাজ জোরদার করতে একটি বিশেষ উপ-কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, এই উপ-কমিটি দ্রুত তদন্ত করে নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় উপস্থিত জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি তাঁর বক্তব্যে নদী ও খালের সীমানা নির্ধারণ এবং চলমান উন্নয়নকাজের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ল্যাব এইডের পাশে নির্মিতব্য নতুন একটি ভবনের ক্ষেত্রে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে নদীর প্রকৃত জায়গা ও সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় মোট ২১টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১১টি খালের খনন কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং বাকি খালগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

যশোর জেলায় নদী, খাল ও অন্যান্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত সরকারি তথ্যমতে, জেলার কেশবপুর উপজেলায় আপারভদ্রা নদীতে চিহ্নিত ৮৮টি অবৈধ স্থাপনার মধ্যে ইতিমধ্যে ৫০টি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই নদীর মোট ১০.৯৫ একর জমির মধ্যে ৫.৯৮ একর জমি সফলভাবে অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও জেলায় নদী ও জলাশয় সুরক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। চলমান প্রকল্পের মধ্যে জেলায় বর্তমানে মোট ৩১টি খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।

এই খাল খননের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২.১১ কিলোমিটার (যার মধ্যে প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৩৮.৪১৫ কিলোমিটার)। সামগ্রিকভাবে এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬১.১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডি যৌথভাবে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করছে।  ইতিমধ্যে ৯টি খালের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বাপাউবো ৮টি এবং এলজিইডি ১টি খাল খনন সম্পন্ন করেছে। অবশিষ্ট খালের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদারসহ জেলা নদী রক্ষা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংবাদিকবৃন্দ। বক্তারা যশোরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেকোনো মূল্যে নদী ও খালসমূহকে দখল ও দূষণমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।