• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যশোরের কাঁচাবাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, বৃষ্টির কারণে এখনো ঊর্ধ্বমুখী কিছু পণ্য


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
​যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী বড়বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে পাওয়া গেছে বাজার পরিস্থিতির মিশ্র চিত্র। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চলের জলবদ্ধতায় সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হলেও সম্প্রতি বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় অনেক পণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মরিচসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো চড়া রয়েছে।
​খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এছাড়া বেগুন ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ভেন্ডি/ঢেঁড়স ৩৫-৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা, পুইশাক ৭০-৮০ টাকা এবং ডাটা শাক ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতিটি কাঁচকলা ও শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

​বড় বাজারের আড়তদার মোহাম্মদ রাসেল জানান, বৃষ্টির পর সরবরাহ ভালো হওয়ায় পাইকারি বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। আগে যেখানে লাউ পাইকারিতে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ৪৫-৫৫ টাকায় নেমে এসেছে। আগে ৮০-১০০ টাকায় কেনা ক্ষীরা এখন পাইকারিতে ২৫-৩০ টাকা ও খুচরায় ৪০-৫০ টাকায় মিলছে। একইভাবে ৯০ টাকার উচ্ছে পাইকারিতে ৫০-৬০ টাকা এবং ৬০ টাকার পটল ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

​তবে কাঁচামরিচের বাজার এখনো উত্তপ্ত। কাঁচা মরিচ বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় মরিচ গাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে বিগত ১০-১২ দিন ধরে চড়া দামে প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ ৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

​ অতিবৃষ্টি ও নিম্নাঞ্চলের ক্ষেত-খামার ডুবে যাওয়ায় অনেক সবজি পচে গেছে। এর ফলে বাজার সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। তার মতে, কিছুদিন টানা রোদ ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকলে এবং নতুন ফসল বাজারে এলে দাম আরও স্বাভাবিক হবে।

​অন্যদিকে, আড়তদার রাসেল ও ব্যবসায়ীদের মতে, গাছে ফলন কমে গেলে সরবরাহের ঘাটতিতে দাম বাড়ে এবং সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে আসে—যা কৃষিপণ্যের সাধারণ নিয়ম। সম্প্রতি আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় গাছের নতুন ফলন বাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে শুরু করেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে দামে।
​বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা জানান, সার্বিকভাবে সবজির বর্তমান দাম আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তারা। তাদের মতে, পুনরায় বৃষ্টিপাত বা বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে মরিচ ও পটলের মতো পণ্যের দাম আবারও নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।