• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

‘শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হবে’ : যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অমিত


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর:
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুতে বিশেষ মনোনিবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, “সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।”

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে যশোর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে ‘এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ এবং জিলা স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “অতীতে আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত ডিজেল এবং ফার্নেস অয়েল নির্ভর ছিল। পরবর্তীতে তা গ্যাস এবং কয়লা নির্ভর করা হয়, যার প্রায় সবগুলোই প্রকৃতির কোনো না কোনো ক্ষতিসাধন করছে। পরিবেশ রক্ষায় সরকার বর্তমান বাজেটে স্কুলের ইলেকট্রিক বাইকের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্য ঘোষণা করেছে। একই সাথে সরকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতি গ্রহণ করেছে। আগামীতে প্রথমে সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এমন এক আধুনিক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বর্জ্য থেকেও আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।”

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদানকে আনন্দময় করতে হবে। এটিই আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য। লেখাপড়ার মধ্যে শিক্ষার্থীরা আনন্দ খুঁজে পেলে তারা শিক্ষার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী হবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “লেখাপড়া শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতা বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হবে। তোমরা কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও, সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। অনেক বন্ধু তোমাদের তথাকথিত ‘অ্যাডভেঞ্চারের’ কথা বলে এমন কিছু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা ক্ষতিকর; সেখান থেকে তোমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় আছে। জীবন যেখানে আটকে যায়, সেখান থেকেই নতুন উদ্যমে পথ চলা শিখতে হয়। তাই থেমে থাকলে চলবে না, নব উদ্যামে এগিয়ে যেতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুক আযম মুঃ আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৩ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার৩০০ টাকা ব্যয়ে যশোর জিলা স্কুলের এই আধুনিক ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হচ্ছে।