• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি: ৭৯ স্টেশনে পানি বৃদ্ধি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার :
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এবং উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ৫টি প্রধান নদীর ৯টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রের দেওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫টি নদীর আরও ৯টি স্টেশন বর্তমানে 'সতর্ক সীমায়' রয়েছে, যা যেকোনো সময় বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এই স্টেশনগুলো হলো— তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা); কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (মৌলভীবাজার); সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট), ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) পয়েন্ট।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের ভেতরে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

বর্তমানে দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৭৯টি স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৩টিতে পানি হ্রাস পেয়েছে এবং ৫টি স্টেশনে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।