ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট প্রতিবাদ করায় যুবকদের নামে চাঁদাবাজি মামলা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬
স্টাফ রিপোর্টার :
ফেসবুকে মানহানিকর ও আপত্তিকর পোস্টের প্রতিবাদ করায় উল্টো ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও মারধরের মিথ্যা মামলা দিয়ে দুই যুবককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোর জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার ভুক্তভোগী যুবক আব্দুল মামুন ও কাজী আশরাফুল ইসলাম সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বড় মেয়ে মারিয়া মুনতাসারি গত ২৯ জুন বিদেশ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি এবং ‘আমরাই যশোর পরিবার’ নামক একটি গ্রুপে মামুন ও সুমনসহ তাঁদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ছবি দিয়ে নানা ধরনের অশ্লীল ও আপত্তিকর পোস্ট করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১ জুলাই তারা শহরের মুজিব সড়ক মডেল মসজিদের সামনে মারিয়াদের বাসায় গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম তুহিন তাঁদের সাথে কথা না বলে উল্টো পুলিশ ডেকে এনে বাসা থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে পুলিশকে মারিয়ার করা আপত্তিকর পোস্টগুলো দেখালে পুলিশ তাঁদের চলে যেতে বলে। এরপরও মারিয়া ফেসবুকে একই ধরনের পোস্ট ও মন্তব্য করতে থাকলে কোনো সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে এবং থানায় জিডি করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন গত ৮ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট চাঁদাবাজির মামলা করেন।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, গত ৩০ জুন বিকেলে আইনজীবী সমিতি থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে মামুন ও সুমন ওই আইনজীবীর গতিরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে তাঁর স্ত্রী-কন্যার ক্ষতি করার হুমকি দেন। এমনকি চাঁদা না পেয়ে গত ৬ জুলাই দুপুরে লোহার রড দিয়ে তাঁকে বেদম মারধর করে জখম করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মামুন ও সুমন বলেন, মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও বানোয়াট। ওই আইনজীবী মিথ্যা তথ্য দিয়ে এলাকায় আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছেন, যাতে আমরা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হই।
ভুক্তভোগীরা এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :