• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মারিবে সেনাবাহিনী-হুথি ভয়াবহ সংঘাত, ২৪ ঘণ্টায় নিহত অন্তত ৮০


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮
ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির কাছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই তীব্র লড়াইয়ে অন্তত ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি।

তিনি জানান, মারিব সিটির সীমান্ত এলাকায় হুথিরা বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করে। প্রায় একদিনব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে ৮০ জনেরও বেশি হুথি যোদ্ধা মারা পড়ে এবং বাকিরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের অন্তত ৯টি সামরিক যানবাহন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল-হাতেমি আরও জানান, স্থলভাগে সংঘাত চলাকালেই ইয়েমেনের বিমান বাহিনী পুরো মারিব প্রদেশ জুড়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। বিমান হামলায় হুথিদের একাধিক সামরিক আস্তানা ও সেনা সমাবেশস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ সংঘাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে মারিব প্রদেশ। বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন। পুরো মারিব প্রদেশের সিংহভাগ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজধানী মারিব সিটি এখনো সরকারি বাহিনীর অধীনেই রয়েছে। শহরটি দখলের জন্য হুথিরা বহুবার চেষ্টা চালালেও প্রতিবারই প্রাণহানির মধ্য দিয়ে তাদের ফিরে যেতে হয়েছে।

২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় শিয়াপন্থি হুথিরা। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর অঞ্চলটিতে তুলনামূলক শান্তি বিরাজ করলেও গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি আবারো সহিংস রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারই রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় প্রায় ৫০ জন নিহত হুথি সেনা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে সেনাকর্তা আল-হাতেমির দাবি, যুদ্ধে হুথিদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা মারা যাচ্ছে। কিন্তু বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তারা প্রকৃত নিহতের ১০ শতাংশেরও কম জনসম্মুখে স্বীকার করে। হুথিদের কাছে নিজেদের যোদ্ধারা মূল্যহীন; তাদের লক্ষ্য হাসিলে যোদ্ধাদের বলির পাঁঠা বা ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।”

সূত্র: আরব নিউজ