যশোরে বহুতল ভবনের বকেয়া বিল চাওয়ায় ঠিকাদারদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি, ৩০০ শ্রমিকের মানবেতর জীবন
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:১৯
নিজেস্ব প্রতিনিধি:
যশোর শহরের আরবপুরে নির্মাণাধীন ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ ভবনের বকেয়া বিল পরিশোধ না করে উল্টো ঠিকাদারদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সরদার স্টেট-এর বর্তমান মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। বকেয়া বিল না পাওয়ায় ভবনটির কাজে নিয়োজিত প্রায় ৩০০ শ্রমিক চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনার প্রতিকার এবং প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও শ্রমিকরা আজ বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার আরবপুরস্থ বিমান বন্দর সড়কের (১০১৬ নং হোল্ডিং) ‘সরদার স্টেট’-এর স্বত্ত্বাধীকারী জনাব মোঃ আব্দুস সালাম সরদার (হবি) তার নিজ জমিতে ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ নামীয় একটি ১৩তলা ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কাজ চলাকালীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর (২৭/১২/২০২৫ ইং) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর প্রবাস থেকে ফিরে এসে সরদার স্টেট-এর মালিকানার দায়ভার গ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান কামাল হোসেন ও সায়াদ হোসাইন। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ০৩/০১/২০২৬ ইং তারিখে তারা ভবনের সব ঠিকাদারদের ডেকে নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার আদেশ দেন।
ঠিকাদাররা তাদের বকেয়া বিলের কথা জানালে, মালিকপক্ষ ভবনের ম্যানেজার মোঃ ফরিদ হোসেন ও জামির হোসেনের নিকট কাজের বিল জমা দিতে বলেন। চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া কাজের বিল জমা দেওয়ার পর টাকা চাইতে গেলে ম্যানেজার ও মালিকপক্ষ ঠিকাদারদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে গত ১০/০১/২০২৬ ইং তারিখে ঠিকাদাররা স্ব-শরীরে বিলের টাকা চাইতে গেলে মরহুম আব্দুস সালাম সরদারের দ্বিতীয় ছেলে সায়াদ হোসাইন এবং তার শ্বশুর জনাব জিয়াউল হক ঠিকাদারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা ঠিকাদারদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। শুধু তাই নয়, বকেয়া টাকা পুনরায় চাইলে বা এই বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও প্রদান করা হয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং- ১৫৬৪, তারিখ- ২২/০২/২০২৬ ইং) দায়ের করেন। তবে জিডি করার পরও অভিযুক্তরা কোনো প্রকার মীমাংসা বা টাকা পরিশোধ করেননি।
মানববন্ধনে ৮ ঠিকাদাররা তাদের বকেয়া বিলের হিসাব তুলে ধরেন, যার মোট পরিমাণ ৬৭,২৩,২৮৩ (সাতষট্টি লক্ষ তেইশ হাজার দুইশত তিরাশি) টাকা। বকেয়া বকেয়া বিল আনিচুর রহমান (শাপলা কন্সট্রাকশন) ২৭,৭৪,৯৫৪ টাকা, আব্দুল খালেক (সকাল সন্ধ্যা স্যানিটারী এন্ড ইলেকট্রিক) ১১,১৯,৩৮৭ টাকা, ইউনুচ আলী (মেসার্স তন্নি ইলেকট্রিক) ১১,২৩,৫৮৫ টাকা, বিল্লাল হোসেন (টাইলস ঠিকাদার) ৯,১৩,৩৬০ টাকা, শফিয়ার রহমান (রং ঠিকাদার) ৩,৭১,৬০৭ টাকা, চাঁন আলী (থাই ও গ্লাস ঠিকাদার) ২,১৬,৭১০ টাকা, আমির হোসেন (রওশনআরা ফার্নিচার) ১,৫৭,১০০ টাকা, রিপন হোসেন (গ্রিল ঠিকাদার) ৪৬,৫৮০ টাকা।সর্বমোট বকেয়া বিল ৬৭,২৩,২৮৩ টাকা।
আপনার মতামত লিখুন :