• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন: যশোরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানীর পাটুয়ার টেক এলাকায় অবস্থিত ইকো রিসোর্ট ‘টুপটুপ’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া নিহতদের তালিকায় তাঁদের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।

নাহিদুর রহমান মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের (দ্বিতীয় ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে 'গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড' নামক প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাহিদুর রহমান গত ১১ অক্টোবর রিসোর্টটির একটি কক্ষ বুকিং দেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ছুটি কাটিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১টায় কক্ষ ছাড়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু নাহিদুর ও তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নিজেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

আবেগপ্লুত কণ্ঠে জাহিদুর রহমান বলেন, "আমরা দুই ভাই। মা মারা গেছেন, অসুস্থ বাবা গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো এই দুর্ঘটনার কথা জানেন না। আমার ভাই ও তাঁর পরিবার বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে—সেটুকু নিশ্চিত হতে পারিনি। চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আমাদের সময় কাটছে।"

শনিবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নাহিদুর নামের একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। তিনি আরও জানান, আগুনে নিহতদের মরদেহগুলো এতটাই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে নিহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

শনিবার রাতে নাহিদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ এবং তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী-বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তাঁদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ার জন্য আকুতি জানান সকলে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ার টেক এলাকার ইকো রিসোর্ট ‘টুপটুপ’-এ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোট ১০টি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ১০ জনের মধ্যে একটি পরিবারেরই ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই নিহতদের পরিচয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।