• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ‘খারাপ চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলের তীব্র ক্ষোভ ও আপত্তি


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬, ০৭:১২
ছবির ক্যাপশন: ad728

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববারই (২৪ মে) এই খসড়া চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টাকে একটি ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল।


প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করবে এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড় দেবে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’-কে এক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “এই চুক্তির যে কাঠামো বা রূপরেখা দেখা যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে এর মাধ্যমে ইরান হরমুজ প্রণালিকে একটি বড় রাজনৈতিক ও সামরিক অস্ত্রে পরিণত করার সুযোগ পাবে। তারা এই জলপথটিকে এমনভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অস্ত্রে রূপ দেবে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম বিপজ্জনক হবে না।”


অজ্ঞাতনামা ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প মনে করছেন এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যভিত্তিক হবে এবং এর মাধ্যমে কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু এর বিপরীতে ইরানকে তাদের মূল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে (আপাতত) বড় কোনো ছাড় দিতে হচ্ছে না।”


তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হতে যাওয়া এই চুক্তির প্রথম ধাপের পর পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে এবং আদতে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে কি না—তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল যখন কোনো আন্তর্জাতিক বিষয়ে সরাসরি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে চায় না, অথচ নিজেদের তীব্র অসন্তোষের বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাতে চায়, তখন তারা প্রায়শই ‘অজ্ঞাত বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা’র মাধ্যমে গণমাধ্যমে বার্তা দিয়ে থাকে। আর ইসরায়েলি প্রশাসনের এমন নেপথ্য বার্তার পেছনে সাধারণত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি সবুজ সংকেত থাকে বলে ধারণা করা হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল