যশোরে নেশার টাকার জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় নেশার টাকার জেরে ছামিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। স্ত্রীকে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী সুজন (২৬) নিজের শরীরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ সোমবার (৮ জুন) ভোরে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ইমরাজের ভাড়া বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ ছামিনা আক্তার যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে শেখহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নেশার টাকা নিয়ে কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা চরম আকার ধারণ করলে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি ধারালো চাকু দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ছামিনা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দা ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ছামিনাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ত্রীকে রক্তাক্ত করার পর অভিযুক্ত সুজন নিজের বুকেও ধারালো চাকু দিয়ে একাধিক স্থানে আঘাত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত ছামিনা আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ঘাতক স্বামী সুজন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। মাদকের টাকার জেরে আজ ভোরে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল ও নিহতের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তাঁরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :