• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

মনিরামপুরে জামায়াতের ৩ নেতার পদ স্থগিত


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৪
ছবির ক্যাপশন: ad728

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুরে নদ খননের মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, হাট ইজারাসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা জামায়াতের তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে। পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন— উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন।

​গত শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভা শেষে জেলা জামায়াতের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে আহসান হাবিব লিটন ও ফারুক হোসেনকে দুই মাস এবং মহিউল ইসলামকে তিন মাসের জন্য দলীয় পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
​দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল মনিরামপুরে হরিহর নদ খনন থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন ও জেলা শুরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা হলেও পরবর্তীতে দল দুটির নেতারা তা আপস করে নেন।

​এই সংঘর্ষ ও বিতর্কের কারণ অনুসন্ধানে জেলা জামায়াত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং গরুর হাট ইজারার নামে অর্থ কামানোসহ নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পায়। একই সাথে ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় এই তিন নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় জেলা জামায়াত তাদের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

​এদিকে মনিরামপুর জামায়াতের ভেতরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা নিয়ে ব্যাপক গ্রুপিং ও কোন্দল তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ভোজগাতী, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর, চালুয়াহাটী ও খেদাপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই গ্রুপিংয়ের নেপথ্যে উপজেলা জামায়াতের আমির ও দুই সহকারী সেক্রেটারি লিটন ও শামীম বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

​পদ স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও চাঁদাবাজি বা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা।

​উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, "তিন নেতার পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে, এটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তবে চাঁদাবাজি বা মাটি বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ সত্য নয়। শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।"

​অভিযুক্ত সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন পদ স্থগিতের কথা স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এ ধরনের কোনো কাজ তিনি বা তার সংগঠন সমর্থন করে না।

​তদন্ত কমিটির প্রধান ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম তিন নেতার পদ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কী কারণে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।