যশোরে এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার 'শান্তিপূর্ণ সমাধান'
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৪
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসরপাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ও উভয় পক্ষের মধ্যকার আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টি নিরসন করা হয়।
বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ বৈঠকে এই সুরাহা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল নিজে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘটনাটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। বৈঠকে উভয় পক্ষই বিষয়টি মেনে নিয়ে ইতি টেনেছেন এবং সকল অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবির প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সামনে দ্রুত একটি স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং একটি বসার শেড তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
ডিসি আরও জানান, সংসদ সদস্যের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় (সিজোফ্রেনিয়া) ভুগছেন। এ কারণে তার পক্ষ থেকে এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বৈঠকে উভয় পক্ষই নিজ নিজ ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, "একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল প্রায় ১২ ঘণ্টা আমি বাসায় অবরুদ্ধ ছিলাম। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক আমার বাসার গ্লাস ভেঙেছে এবং ড্রিল মেশিন দিয়ে গেট ভাঙার চেষ্টা করেছে। তবে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন আমি দেখতে পাইনি।
তিনি আরও বলেন, "আমার বাসার সামনে অবস্থিত ‘মাদ্রাসা তুশ শরীয়াহ’ প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই আমি এর সহযোগী ছিলাম। গতকাল চাইলে হাজার হাজার নেতাকর্মী ডাকতে পারতাম, কিন্তু সাধারণ জনগণ বা কওমি মাদ্রাসার সাথে কোনো সংঘর্ষ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক—তা আমি চাইনি। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।
এমপি গোলাম রসুল আরও উল্লেখ করেন, সংকট নিরসনে যশোরের স্থানীয় মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, "আমার মেয়ে অসুস্থ। সে যদি কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তবে তার জন্য আমি দুঃখিত ও মর্মাহত। প্রশাসনের প্রস্তাবে আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সায় দিয়েছি।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের দাখিলকৃত অভিযোগ ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো তারা সার্বিকভাবে বিবেচনা করে আইনগত প্রক্রিয়ার সুরাহা করবেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :