আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানির চাপে অস্থির ডলারের বাজার
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩১
অর্থনীতি প্রতিবেদক :
আমদানি বিল পরিশোধে মার্কিন ডলারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তঃব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং খোলা বাজার—সব মাধ্যমেই বাড়তির দিকে ডলারের দাম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। একই দিনে তাৎক্ষণিক বা স্পট মার্কেটে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়; যা মাত্র এক মাস আগেও ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। তবে বাস্তব চিত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বা ঋণপত্রের (এলসি) দায় মেটাতে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ঘাটতির জোড়া ধাক্কায় মুদ্রাবাজারে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ও সারসহ বড় বড় খাতের আমদানি বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানির খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বাংলাদেশের আমদানি বার্ষিক ভিত্তিতে ৬.২৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪০২ কোটি (৬৪ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে একই সময়ে রপ্তানি আয় বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪ কোটি (৪০ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আসার চেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার পাঠালেও, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার টানা ব্যস্ততা শেষে এই গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। টানা ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও জুন ও জুলাই মাসে তা যথাক্রমে ২৮২ কোটি ও ২৮৬ কোটি ডলারে নেমে আসে।
বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে ডলার সংগ্রহ করছিল। এই অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃব্যাংক বাজার কিংবা রেমিট্যান্স চ্যানেল—কোনো মাধ্যম থেকেই যাতে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দামে ডলার কেনা না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের এই দরবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটেও। রাজধানীর মতিঝিলসহ প্রধান মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে প্রতি ডলার ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২৫ টাকা থেকে ১২৫ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
আপনার মতামত লিখুন :