ধর্মঘটের বেতন কর্তন : অনশন ও দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেতন বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবিতে ধর্মঘট করায় যশোর, মাগুরা, নড়াইল ও ঝিনাইদহ জেলার ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাক কর্মচারীর ১৩ দিনের বেতন কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কর্তন করা বেতন ফেরত এবং অবিলম্বে অন্যান্য দাবি পূরণ করা না হলে অনশনসহ দেশব্যাপী কঠোর ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
আজ শনিবার গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়ন, যশোর জেলা শাখা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ ও নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আকাশ খান।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে বেতন তিনগুণ বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা নির্ধারণের দাবিতে চার জেলার গ্রামীণ ডাক কর্মচারীরা টানা ১৩ দিন ধর্মঘট পালন করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে কর্মচারীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফেরেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহারের সময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে কোনো কর্মচারীর বেতন-ভাতা কর্তন করা হবে না এবং প্রতি মাসের ১ থেকে ২ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাস ভঙ্গ করে খুলনা বিভাগীয় পোস্ট মাস্টার জেনারেল ও ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলের নির্দেশে চলতি মাসের বেতন থেকে ধর্মঘটের ১৩ দিনের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
আকাশ খান জানান, বর্তমানে যশোর জেলায় ৫৫৩ জনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই চার জেলায় মোট ২ হাজার ২১২ জন গ্রামীণ ডাক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে একজন পোস্ট মাস্টার মাসে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, পিয়ন ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, রানার ৪ হাজার ১৭৭ টাকা এবং অফিস আয়া মাত্র ৪ হাজার ৬০ টাকা বেতন পান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে এই সামান্য টাকায় পরিবার নিয়ে জীবনধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর কর্মচারীরা ভূমির পরচা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জরুরি চিঠিপত্র, ভিপি ও মনি অর্ডারসহ ডাক বিভাগের সব গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রাহকদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও কর্মচারীদের বেতন কেটে নেওয়ার বিষয়টি অন্যায় ও বৈষম্যমূলক।
এ পরিস্থিতি নিরসনে কর্তন করা বেতন অনতিবিলম্বে ফেরত দেওয়া, গ্রামীণ ডাক কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা চালুর জোর দাবি জানানো হয়। এছাড়া কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি, ডাক বিভাগে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহের দাবি তুলেন নেতারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে কর্তন করা বেতন ফেরতসহ দাবিগুলোর সমাধান না হলে অনশনসহ দেশব্যাপী কঠোর ধর্মঘট পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চার জেলার গ্রামীণ ডাক-কর্মচারী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :