যশোরে জাল দলিলে ৩ কোটি টাকার জমি আত্মসাৎ, সাব-রেজিস্ট্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭
বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:
যশোর শহরের ঘোপ জেল রোডের ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৬ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সাব-রেজিস্ট্রারসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে আদালতে মামলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা বেগমের আদালতে মামলাটি করেন শহরের ঘোপ জেল রোডের বাসিন্দা ফজলে রাব্বী। আদালত অভিযোগটির তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।
যশোরের সাব-রেজিস্ট্রার আমেনা বেগম, কেয়ারটেকার মোশারফ হোসেন, ফজলিয়ারা খাতুন, দলিলের সাক্ষী ফকরুল কবির বুলবুল, মহসিন ও জামাল হোসেন, দলিল শনাক্তকারী ওমর ফারুক সাগর এবং দলিল লেখক কাজী রুহুল কুদ্দুস।
প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন বাদী ফজলে রাব্বীর বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন। ফজলে রাব্বীর পিতা ফজলে আকবর ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে ৮২ দশমিক ৪৫ শতক জমি রেজিস্ট্রি করেন, যা বাদী নিজ নামে নামজারি করে খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন।
তবে কেয়ারটেকার মোশারফ হোসেন ওই জমির মধ্য থেকে ৬ শতক জমির জন্য ২০২০ সালে একটি জাল কবলা দলিল তৈরি করেন এবং নামজারির চেষ্টা চালান। এতে ফজলে রাব্বী দেওয়ানি মামলা করলে আদালত জমির হস্তান্তর বা রূপান্তরের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন, যা পরে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই জমির নামজারি স্থগিত করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া ডিসিআর (DCR) তৈরি করে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করেন। ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট যশোর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩ কোটি টাকা মূল্যের জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়।
পরবর্তীতে বাদী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই তারিখের কথিত ডিসিআরটির কোনো অস্তিত্বই নেই। জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজ ব্যবহার, প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ও ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধে সাব-রেজিস্ট্রারসহ জড়িত ৮ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হলো।
আপনার মতামত লিখুন :