‘চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় আমাকে হুমকি ও চাঁদা দাবি করছে বিএনপির কিছু নেতা’: যশোরে আয়কর আইনজীবী
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬
স্টাফ রিপোর্টার :
যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আয়কর আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, হয়রানি ও চার লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনে নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী আইনজীবী জুয়েল আক্তার মুন্সী।
আইনজীবী জুয়েল জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে তিনি ইছালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। এতে এলাকায় তার জনসমর্থন তৈরি হতে দেখে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্রে মেতেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাত্তার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল বিশ্বাস এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুন্না বিশ্বাসসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী স্থানীয় সাইফুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে মনোহরপুর বাজারে তার নিজ বাড়িতে যান। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
আইনজীবী জুয়েল বলেন, সাইফুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রী নিশি খাতুনের পারিবারিক বিরোধ ও তালাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার লাখ টাকা আত্মসাতের একটি ভিত্তিহীন নাটক সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, পেশাগত জায়গায় সাইফুজ্জামান আইনি সহায়তা চাইলে আইনজীবী হিসেবে তিনি কেবল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সমঝোতায় গত ২৭ জুলাই তালাক ও দেনমোহরের চার লাখ টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই লেনদেনের সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার কাছে চার লাখ টাকা দাবি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
জুয়েল আক্তার মুন্সী জানান, হুমকি ও চাঁদা দাবির এই ঘটনায় তিনি ইতোমধ্যে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আদালতে মামলা করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন থাকলেও অভিযুক্তদের ক্রমাগত হুমকিতে তিনি ও তার পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুয়েল আক্তার মুন্সীর স্ত্রী জিনিয়া জুয়েল, ভাই অভি মুন্সি এবং নিকট আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় সুধীজন।
আপনার মতামত লিখুন :