• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

ঝিকরগাছায় জীবিত মানুষকে ভোটার তালিকায় 'মৃত' দেখিয়ে নাম কর্তন, তথ্য সংগ্রহে গাফিলতির অভিযোগ


FavIcon
সাইফুল্লাহ খালিদ
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩
ছবির ক্যাপশন: ad728

স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের ঝিকরগাছায় জীবিত এক ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় মৃত দেখিয়ে নাম কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। ভোট দিতে গিয়ে নিজের নাম না পেয়ে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি জানতে পারেন ৮৬ বছর বয়সী মোঃ নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

নজরুল ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বল্লা গ্রামের মৃত এলাহী বক্সের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বর্তমানে পেনশনভোগী। জীবিত থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারে তাকে 'মৃত' হিসেবে দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে গিয়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি নজরুল ইসলাম। পরে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাকে মৃত হিসেবে দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম কর্তন করা হয়েছে।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে ভোটার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভোটার তথ্য সংগ্রহকারী শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন জানান, তিনি মহল্লার একটি বাড়িতে বসে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন। পরে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তাকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করা হয়নি বলে স্বীকার করেন লোকমান হোসেন।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য হামিদা বেগম অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম মারা গেছেন এমন কোনো তথ্য তিনি লোকমান হোসেনকে দেননি। বরং তার দাবি, তথ্য সংগ্রহকারী নিজেই সিল তৈরি করে ও স্বাক্ষর জাল করে ওই প্রত্যয়নপত্র তৈরি করেছেন। অসুস্থ থাকার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নন বলেও জানান।

ভোটার তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বে থাকা আশিংড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানও বিষয়টি যাচাই না করেই স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহকারী ও ইউপি সদস্যের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই তিনি ফর্মে স্বাক্ষর করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিজে কোনো খোঁজ নেননি।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইমরানুর রহমান বলেন, নজরুল ইসলামের স্ট্যাটাস জীবিত দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঢাকা হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে সরকারি নথিতে জীবিত একজন মানুষকে মৃত হিসেবে দেখানোর ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নজরুল ইসলাম। বিশেষ করে পেনশনের কাগজপত্রসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আগে তথ্য যাচাইয়ের ন্যূনতম প্রক্রিয়াটিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

একজন জীবিত নাগরিককে সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করার মতো গুরুতর ভুল কীভাবে ঘটল এবং এর জন্য দায়ী কেএখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।