মুফাসসির সম্মেলনে কোরআন-হাদিসের আলোকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান এমপি গোলাম রসুলের
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৬
স্টাফ রিপোর্টার :
মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি বলেছেন, ওয়াজ-মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ উপস্থিত থাকেন। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ধরে বক্তব্য না দিয়ে কোরআন, হাদিস ও ইসলামের নীতি-নৈতিকতার আলোকে মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
শনিবার যশোর আল-হেলাল ট্রাস্টে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা আয়োজিত ‘মুফাসসির সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জিরেট ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকি রহমান। বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, বাংলাদেশে যারা আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে-ময়দানে ও বিভিন্ন মাহফিলে সাধারণ মানুষের সামনে কোরআনের তাফসির ও ইসলামের বাণী তুলে ধরেন, তাদের সংগঠিত করে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন কাজ করছে। জনগণের সামনে কোন সময়, কোন প্রেক্ষাপটে এবং কীভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে, সে বিষয়েও আলেমদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোরআনের আলোকে কথা বলব। যাতে কথাগুলো মানুষের অন্তরে পৌঁছে যায় এবং মানুষ বুঝতে পারে—কোরআনে কী বলা হয়েছে, হাদিসে কী বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো দলের নাম ধরে কথা বলব না।’
তিনি আরও বলেন, একটি মাহফিলে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে সব রাজনৈতিক মত ও পথের মানুষ থাকেন। কোনো দলের নাম ধরে সমালোচনা করা হলে অন্য মতের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এজন্য ইসলামের পথে মানুষকে আহ্বান জানাতে দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে কোরআন-হাদিস, ইতিহাস ও নৈতিকতার আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে।
প্রধান অতিথি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কেউ বিএনপি, কেউ আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতে পারেন। কিন্তু বক্তব্যে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নীতি-নৈতিকতার কথা বলব। আমরা ক্ষমতায় গেলে কী করতে চাই এবং সাধারণ মানুষ কী সুফল পাবে, সেটাই মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে গোলাম রসুল বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের কারণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে সমাজে সৎলোকের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। মানুষ যখন বুঝতে পারবে যে একটি আদর্শ বাস্তবায়িত হলে সব শ্রেণির মানুষ উপকৃত হবে, তখন তারা সেই আদর্শের প্রতি সমর্থন জানাবে।
বক্তব্যে তিনি দেশের সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে মৌলিক সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে তা পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও জনগণের মতামতের গুরুত্ব থাকা প্রয়োজন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীন যশোর জেলা শাখার ২০২৬-২৭ মেয়াদের কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে হাফেজ মাওলানা জুলফিকার আল-মাহমুদকে সভাপতি এবং মাওলানা শফিকুর রহমানকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন—সহ-সভাপতি মাওলানা সেলিম জাহাঙ্গীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল ও হাফেজ মাওলানা মেহেদী হাসান; সহ-সম্পাদক মাওলানা ইনামুল হাসান বিন নূর, মাওলানা সাইফুচ্ছাহ বিন কুরবান ও মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী; সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তৌহিদুর রহমান; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন; অফিস সম্পাদক মাওলানা মোল্লা আনোয়ার হুসাইন; সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী কবির বিন সামাদ; অর্থ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ; প্রচার সম্পাদক মাওলানা রবিউল ইসলাম বেলালি; সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইমরান হুসাইন সাইফি; দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু বক্কর গিফারি; শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম শামসুদ্দিন; সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালি উল্লাহ বরকতি; সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আক্কাস আলী খান; সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা তরিকুল ইসলাম; সহ-সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা মোস্তাক আহমেদ; আইটি সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই; পাঠাগার সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম আজাদি এবং প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা জিয়াউর রহমান ফারুকী।
আপনার মতামত লিখুন :