লেখক: রুদ্র ফারাবী
আজ ১৫ আগস্ট বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল ও মার্কসবাদী ভাবধারার অন্যতম শক্তিমান কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মদিন। বাংলা কবিতায় শোষিত, বঞ্চিত ও সংগ্রামী মানুষের কথা অসাধারণ শক্তি ও প্রত্যয়ের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি অল্প বয়সেই হয়ে উঠেছিলেন গণমানুষের কবি।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। কৈশোর থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাম্যবাদী রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর কবিতায় পরাধীন দেশের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভিক্ষ, শোষণ-বঞ্চনা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
মাত্র ছয়-সাত বছরের সাহিত্যজীবনেই সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর রচনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিষয়বস্তু ও প্রভাবের দিক থেকে তা ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। মাত্র একুশ বছরের জীবনে তিনি যে পরিণত সাহিত্যচেতনার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল দৃষ্টান্ত।
সুকান্তের কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বাস্তবতার নির্মোহ উপস্থাপন। শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুধার্ত শিশু, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী এবং একটি শোষণমুক্ত ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্ন তাঁর কবিতায় বারবার ফিরে এসেছে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’ ও ‘পূর্বাভাস’ বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
তাঁর কবিতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি যে দায়বদ্ধতা ও আশাবাদ ফুটে উঠেছে, তা আজও পাঠককে অনুপ্রাণিত করে। জীবনের স্বল্প পরিসর তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি; বরং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এমন সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালের ১৩ মে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন এই প্রতিভাবান কবি। জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাঁর সাহিত্যিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। তাই মৃত্যুর বহু দশক পরও সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় নাম।
জন্মদিনে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি। তাঁর সাহিত্য আমাদের শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতন হতে এবং মানবিক, সাম্যভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রেরণা জোগাক এই প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :