নিজেস্ব প্রতিনিধি:
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, যশোর এক সময় সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল, তবে এটি মূলত একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা শহর। এই সমাজকে আমাদের ইতিবাচক ধারায় পাল্টাতে হবে। তরুণদের এমন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা বিপথগামী না হয়। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের হাতে ভালো কিছু তুলে দিতে না পারলে তারা ভুল পথে পা বাড়াবে, অকাজ করবে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কস্থ আর এন ক্রীড়াচক্র মিলনায়তনে 'নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট'-এর ২০২৬ সালের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের জন্মের ইতিহাস আপনারা শুনেছেন। নান্নু চৌধুরী অবিবাহিত ছিলেন এবং তিনি মৃত্যুর আগে তার সমস্ত সম্পত্তি যথাযথ মানুষের হাতে অর্পণ করে গেছেন। ট্রাস্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই একদিন সমাজকে পাল্টে দিতে পারে। অর্থের পরিমাণ সামান্য হতে পারে, তবে এর মাধ্যমে এখানকার বৃত্তবানরা সমাজে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি আমার সাধারণ জীবনে সবসময় শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখা ও দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আমরা এই আর এন রোডেই যশোর কলেজ ও সন্দীপন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়া এই অঞ্চলে ১১টি বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে আমাদের অবদান রয়েছে। আমরা একা একা কখনো কিছু পরিবর্তন করতে পারব না, সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমেই কেবল সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব। আসুন, আমরা সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করব।
অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর (এমএ) শ্রেণীর মোট ৬৮ জন মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ বছর শিক্ষার্থীদের শ্রেণীভেদে জনপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার। স্বাগত ও বিশেষ আলোচনায় ট্রাস্টের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠাতা নান্নু চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন এবং সেই থেকে আমরা ২০০১ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছি। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এ বছর ইসলামী ব্যাংকের কিছু প্রাতিষ্ঠানিক অসুবিধার কারণে আমরা প্রত্যাশার চেয়ে কম সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করতে পেরেছি।
শিক্ষাবৃত্তি কমিটির আহ্বায়ক কাজী আব্দুল বাসেদ বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, ট্রাস্টের সদস্য চৌধুরী মাহমুদ রেজা ও গোলাম ফারুক লিটন। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর এন ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোস্তফা গোলাম কাদের এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক খান মোহাম্মদ শফিক রতন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নান্নু চৌধুরীর এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সমাজের অন্য বিত্তবানদেরও শিক্ষার আলো ছড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেন।
আপনার মতামত লিখুন :