• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Techogram

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান: জায়গা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন কৃষক-ব্যাপারীরা


FavIcon
শাহরিয়ার সীমান্ত
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১
ছবির ক্যাপশন:

স্টাফ রিপোর্টার :
যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ১৮টি দোকান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে তৈরি হওয়া তীব্র জায়গা ও পার্কিং সংকটে কাদা-মাটির মধ্যে কৃষিপণ্য কেনাবেচায় চরম অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। বাজারে স্থান না পেয়ে অনেক ব্যাপারী পার্শ্ববর্তী সাতমাইলসহ অন্য হাটে চলে যাচ্ছেন, আর শত শত মণ কাঁচা সবজি বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে চৌগাছা বাজারে গিয়ে কৃষক, আড়তদার ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, এনজিওর ঋণ ও জমানো টাকা দিয়ে কষ্টার্জিত পটল, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি হাটে এনে বসার কোনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। কাবিলপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় চাষি আজিজুর রহমান আক্ষেপ করে জানান, দিনভর হাটে বসে থেকেও ব্যাপারীর অভাবে পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে না। পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি গুনে শেষমেশ সবজি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে, যা পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আড়তদার কাজী আশরাফ আলী ও মো. পলাশ হোসেন জানান, বাজারে ট্রাক বা বড় যানবাহন ঢোকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এবং কাদা-মাটির ভোগান্তির কারণে ব্যাপারীরা এ মুখ হচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কিছু পণ্য করিমনে করে অন্য হাটে পাঠাতে হচ্ছে।

এদিকে, চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কোনো অনুমতি ছাড়া ও ইজারার শর্ত ভেঙে কাঁচাবাজার আড়তদার সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৯ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে এসব অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, "কোনো টাকা নেওয়ার কথা সত্য নয়, তবে বাজারে জায়গা সংকটে ট্রাক ঢুকতে না পেরে জ্যাম তৈরি হওয়ার বিষয়টি সঠিক।"

বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষকদের ক্ষতি রোধে অবিলম্বে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, "ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি।"